বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক ধূমকেতুর নাম সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ঢাকাই সিনেমাকে পৌঁছে দিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ আজও দেশের চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং এক অমীমাংসিত রহস্য।
নক্ষত্রের পতন:
১৯৯৬ সালের সেই বিষাদময় শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসভবনে উদ্ধার করা হয় এই নায়কের মরদেহ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে যখন তিনি সাফল্যের মধ্যগগনে, তখনই তাঁর এই চলে যাওয়া স্তম্ভিত করে দিয়েছিল পুরো দেশকে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায়। আজও তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ভক্তরা চোখের জলে স্মরণ করেন তাদের প্রিয় ‘ইমন’কে (সালমান শাহর ডাকনাম)।
ঢালিউডের ফ্যাশন আইকন:
সালমান শাহ শুধু একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন নব্বই দশকেরুণ প্রজন্মের স্টাইল আইকন। তাঁর মাথার রুমাল, পরনের কটি, চশমা কিংবা চুলের ছাঁট—সবই ছিল সে সময়ের তরুণদের কাছে ক্রেজ। আজও আধুনিক সময়ের অভিনেতারা তাঁকে তাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে মান্য করেন।
অমর সৃষ্টিসমূহ:
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর মাত্র তিন-চার বছরে উপহার দিয়েছেন ২৭টি জনপ্রিয় সিনেমা। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
অন্তরে অন্তরে, বিক্ষোভ, সুজন সখী, স্বপ্নের ঠিকানা (তৎকালীন সময়ে রেকর্ড ব্যবসা করা ছবি), এই ঘর এই সংসার, আনন্দ অশ্রু, সত্যের মৃত্যু নেই।
অম্লান স্মৃতি:
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি। বিশেষ করে অভিনেত্রী শাবনূরের সাথে তাঁর জুটি ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সফল জুটি। তাঁর মৃত্যুর পর কয়েক দফা তদন্ত হলেও ভক্ত ও পরিবারের মনে আজও রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সালমান শাহ আজও বেঁচে আছেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসায়, রুপালি পর্দার চিরসবুজ রাজপুত্র হয়ে।