ওয়াশিংটন ডিভিসি | ২০২৬ সালের শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কিছু একতরফা সিদ্ধান্ত ও কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমগুলো তার এই ক্ষমতা চর্চাকে ‘বেপরোয়া’ হিসেবে অভিহিত করছে।
আলোচিত কিছু পদক্ষেপ:
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান: বছরের শুরুতেই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনাটি বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে। একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ট্রাম্প পুনরায় গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের বা দখলের দাবি তুলেছেন, যা ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
অভ্যন্তরীণ একচ্ছত্র আধিপত্য: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে জোরালো সওয়াল করছে তার প্রশাসন। এছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু থেকে সরে আসা: জাতিসংঘ জলবায়ু চুক্তি ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে অটল রয়েছেন, যা বিশ্ব জলবায়ু পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
প্রতিক্রিয়া: লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাবে চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতারা এই শাসনপদ্ধতিকে ‘স্বৈরাতান্ত্রিক’ ও ‘সংবিধানের অবমাননা’ বলে নিন্দা জানাচ্ছেন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যই তিনি এসব সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।