বরগুনার পাথরঘাটায় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওরফে মনির খতিবের বিরুদ্ধে সেলিম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সেলিম হাওলাদার রবিবার সকাল ১০ টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওরফে মনির খতিব উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মধ্য কালমেঘা এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ খতিবের ছেলে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মধ্য কালমেঘা এলাকার সেলিম হাওলাদার তার পৈত্রিক জমিতে বসবাস করে আসছেন। গত ১০ বছর আগে তিনি দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাওয়ায় পাথরঘাটা থেকে ঢাকায় কর্মসংস্থানের জন্য অবস্থান করেন। এই সুযোগে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওরফে মনির খতিব স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ওই জমি দখল দিয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করার চেষ্টা করেন। জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেলিম তার বাড়িতে আসলে দেখেন তাসলিমা নামের এক নারী সেলিমের জমিতে পাকা ভবন নির্বাণ করছেন। বিষয়টি বাধা দিলে তাসলিমা ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওরফে মনির খতিবের কাছে গেলে তিনি থানায় অভিযোগ করতে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে সেটিকে মারধরের ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করেন।
সেলিম জানান, ১০ বছর এলাকার বাইরে থেকে মানুষের ধার ধেনা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এই সুযোগে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওরফে মনির খতিব তিনি অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে আমার জমি দখল করার চেষ্টা করছেন। আমি বাড়িতে এসে দেখি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। বিষয়টি আমি জানতে চাইলে মনির খতিবের মাধ্যমে তাসলিমা পাথরঘাটা যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। আহত বিষয়টি মারধরের মিথ্যা কথা বলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। আমি এই মিথ্যে অভিযোগের বিচার চাই।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রিক্সার ড্রাইভার জানান, তাসলিমা নামের এক নারী তাকে নিয়ে পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার পথে কমিউনিটি সেল্টার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায় এবং তাসলিমা ও তার সাথে থাকা লোকজনও আহত হয়।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, মনিরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক জমি দখলের অভিযোগ আছে। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। আমরা এর প্রতিকার চাই এবং মনের খতিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওরফে মনির খতিব ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের সাথে জমি নিয়ে ঝামেলা আছে। ওই ঝামেলার সাথে আমাকে জড়ানো হচ্ছে আমি এর কিছুই জানিনা।
পাথরঘাটা থানা উপ পরিদর্শক (এসআই) দিলীপ সরকার জানান, ৯৯৯ কলের মাধ্যমে কল পেয়ে আমার সঙ্গীও ফোর সহ ঘটনা স্থলে গেলে পাকা ভবন তোলার বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। মারধরের বিষয়টির কথা বলা হলেও তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধান করে দেয়া হবে।