’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান (বা জুলাই গণঅভ্যুত্থান) হলো ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহাসিক ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে এটি পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটানোর এক দফায় রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।
পুরো ঘটনার একটি সংক্ষেপিত ও ক্রমানুসারে ধারাবাহিক সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
মূল কারণ: হাইকোর্ট কর্তৃক ২০১৮ সালের সরকারি চাকরির কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়।
দাবি: সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার করে মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ গঠিত হয়।
বাংলা ব্লকেড: শিক্ষার্থীরা ঢাকা সহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে।
উত্তেজনা: সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বক্তব্য এবং আন্দোলনের বিরোধিতা আন্দোলনের দাবানল আরো বাড়িয়ে দেয়।
সংঘাত ও হামলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আবু সাঈদের শাহাদাত (১৬ জুলাই): রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হাত উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই দৃশ্য পুরো দেশকে স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
কারফিউ ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: সারাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শতাধিক প্রাণহানি ঘটে। সরকার সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করে।
এক দফা দাবি: নির্বিচারে ছাত্র-জনতা হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও দেশের সাধারণ মানুষ একজোট হয়। আন্দোলনটি শুধু কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে “শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ”-এর এক দফা দাবিতে রূপান্তরিত হয়।
সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ: শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, রিকশাচালক, অভিভাবক ও শোবিজ জগতের তারকারা রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনটি সর্বাত্মক জনঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
সর্বাত্মক অসহযোগ: ৪ আগস্ট সারাদেশে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন পালিত হয়, যেখানে বহু মানুষ শহীদ হন।
মার্চ টু ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির আহ্বান জানায়।
পতন: লাখ লাখ ছাত্র-জনতা কারফ্যু উপেক্ষা করে ঢাকার রাজপথে ও গণভবনের দিকে ছুটে আসে। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।
৩৬ জুলাই: আন্দোলনকারীরা আন্দোলনের দিনগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে ৫ আগস্টকে প্রতীকীভাবে “৩৬ জুলাই” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
রাষ্ট্র সংস্কার: বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।
ঐতিহাসিক স্বীকৃতি: ৫ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
দুই বছর পর জুলাই স্মৃতি জাদুগর খুলে দেয়া হয়েছে।