নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো বাকি কয়েক সপ্তাহ, অথচ এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল এবং ছোলাসহ রমজানে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মিরপুরসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু পণ্যের দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ভোজ্যতেল ও চিনি:
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ কিছুটা কম এবং দাম চড়া।
ছোলা ও ডাল:
রমজানের প্রধান অনুষঙ্গ ছোলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ ও রসুন:
দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম কমার লক্ষণ নেই। উল্টো রসুনের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
মাংসের বাজার:
গরুর মাংসের দাম অনেক আগেই সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ব্রয়লার মুরগির দামও দফায় দফায় বাড়ছে।
বাজারে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী রহিম উদ্দিন বলেন, “রমজান আসার আগেই যদি সবকিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকে, তবে রোজা রাখা আমাদের মতো সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে। বাজারের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং সেল কাজ করছে। কেউ অবৈধভাবে পণ্য মজুত করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ চেইন ঠিক থাকলে এবং ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকলে রমজানে নতুন করে দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।