বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ২০০ কিলোমিটির দক্ষিন-পশ্চিম সুন্দরবন সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের সময় জেলেবহরে জলদস্যুদের এলাপাতারী গুলিতে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সোমবার দুুপুর ২ টার দিকে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।
এর আগে রোববার ভোরবাত ৪ টার দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় এ গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ঘটনার ২০ ঘন্টা পর রোববার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে পটুয়াখালীর মহিপুর ঘাটে এসে পৌঁছালে সেখান থেকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এসে সকাল ১০ টার দিকে চিকিৎসা নেন গুলিবিদ্ধ জেলেরা।
গুলিবিদ্ধ জেলেরা হলো, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় টেংরা হাজিরখাল এলাকার নুর আলম খান (৪৮) এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরলাঠিমারা এলাকার শাহজাহান (৪৫)। অন্য আহতদের মহিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
এফবি জাহিদ ট্রলারের মাঝি ফারুক মিয়া বলেন, রোববার ভোররাত ৪ টার দিকে বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় জাল টানার সময় হঠাৎ ১০ থেকে ১২ জনের অস্ত্রধারী একটি ট্রলার কাছে এসে কিছু বোঝার আগেই আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। এ সময় আমাদের জেলেরা দিকবিদিক হয়ে ছুটাছুটি করলে ১৪ জন জেলের মধ্যে নুর আলম খান এবং শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া তাদের ট্রলারের একাধিক জায়গায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। ওই সময় তাদের ট্রলারটির ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে স্থান ত্যাগ করার কারনে জলদস্যুরা কাউকে অপহরন বা মারধর করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, নুর আলমের পিছনে গুলি এবং শাহজাহানের বাম চোখের নিচে গুলি লাগে। আমরা রোববার মহিপুর ঘাটে এসে কলাপাড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ নুর আলম খান বলেন, গত দুই মাস ধরে গভীর সমুদ্রে ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর গভীর সমুদ্রে নিরাপদে মাছ শিকার করতে পারব না।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরে জলদস্যুরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে কোন জলদস্যু বাহিনী এ ঘটনার সাথে জড়িত তা জানা যায়নি। গুলিবিদ্ধ দুই জেলেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত ২১ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে রাজু, আব্দুল মালেকের ছেলে মাহবুব হোসেন ও রাজনকে জলদস্যুরা অপহরন করে নিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত ওই ৩ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগেও ফোরকান মাঝি ও সিদ্দিকসহ ৮ জেলেকে জলদস্যুরা নিয়ে গেলে তারা মুক্তিপনের বিনিময়ে ফিরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কোন পদক্ষেন নিতে দেখা যায়নি। এরকম চলতে থাকলে জেলো তাদের পেশা ছেড়ে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।