বরগুনার পাথরঘাটায় সিআর মামলার রাজু নামের এক আসামিকে জাবিন নেয়া জন্য বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে ঘুষ দিতে গিয়ে পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার জালাল আটক করা হয়। পরে পাথরঘাটা থানার ওসি ও সহকারী পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) এর জিম্মায় মুসলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মো. সাহেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিৎ করেন।
এর আগে সোমবার বেলা ২টার দিকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধা ৫ টার দিকে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদাকে অবহিত করলে তার অনুরোধে বিভাগীয় মামলার শর্তে পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা ও সহকারী পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মো. সাহেদ চৌধুরীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
আদালতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বেলা দুইটার সময় পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ পনির শেখ তার খাস কামরায় অবস্থানকালীন পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার জালাল অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেন। সালাম বিনিময়ের পর অত্র আদালতের সি আর ৭৮০/২৩নং মামলার এটি কাগজ দেখিয়ে মামলার আসামি মোঃ রাজু মিয়ার জামিনের সুপারিশ করেন।
এ সময় তিনি জানান, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আসামিকে জামিন দিয়ে একটি রি-কলের ব্যবস্থা করে দেন। ম্যাজিস্ট্রেট এই বেআইনি তদবিরে বিব্রত বোধ করেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে অবৈধভাবে প্ররোচিত প্রভাবিত করার অভিপ্রায় ঘুষ হিসেবে টাকা দিতে চান এস আই সাহারিয়ার। এ সময় কার্য অসদাচরণ ও ফৌজদারি অপরাধ হওয়ায় কোর্ট পুলিশের সিএসআই, জিআরও এবং আদালতের সহায়ক কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অত্র আদালতেই ম্যাজিস্ট্রেট এসআই মোঃ শাহরিয়ারকে আটক করেন। তাৎক্ষণিক পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাথরঘাটা সার্কেল বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি বিভাগীয় মামলার আশ্বাস দিলে এসআইকে মুসলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, এ বিষয়ে বিচারক অর্ডার সীটে যেটা ডিসাইড করবেন সেই ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেট এবং এসআই শাহরিয়ার জালালের ব্যাপার। এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।