জানুয়ারির হাড়কাঁপানো শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে যাওয়া এবং ঠোঁট বা পা ফাটার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে। তবে সঠিক নিয়ম ও আধুনিক কিছু কৌশল মেনে চললে এই শীতেও আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
১. ‘স্কিন ফ্লাডিং’ পদ্ধতিতে হাইড্রেশন
২০২৬-এর অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ‘স্কিন ফ্লাডিং’। এটি হলো স্তরে স্তরে আর্দ্রতা যোগ করা। মুখ ধোয়ার পর ত্বক পুরো না মুছে হালকা ভেজা থাকতেই সিরাম বা টোনার ব্যবহার করুন, এরপর লাগান ভারী ময়েশ্চারাইজার। এতে আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।
২. অতিরিক্ত গরম পানি বর্জন
কনকনে ঠান্ডায় দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানিতে গোসল করার তৃপ্তি অনেক, কিন্তু এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (Natural Oil) কেড়ে নেয়। তাই হালকা কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়ে গোসল শেষ করা এবং গোসলের ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যে শরীরে লোশন বা অলিভ অয়েল মেখে নেওয়া উচিত।
৩. সানস্ক্রিন কি জরুরি?
অনেকেই মনে করেন শীতকালে রোদে তাপ কম, তাই সানস্ক্রিন লাগবে না। এটি একটি ভুল ধারণা। শীতের মিষ্টি রোদ ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে এবং দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া বা পিগমেন্টেশন তৈরি করে। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ (SPF 30) যুক্ত সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করুন।
৪. ঘরোয়া ফেসপ্যাক ও ন্যাচারাল গ্লো
দামি কেমিক্যালযুক্ত ক্রিমের চেয়ে শীতকালে ঘরোয়া উপাদানে আস্থা রাখছেন অনেকে:
মধু ও টকদই:
ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।
কমলালেবুর খোসা:
কমলার খোসা বাটা বা গুঁড়ো ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিন:
যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা রাতে ঘুমের আগে এই মিশ্রণটি মাখতে পারেন।
৫. শীতকালীন পুষ্টিকর স্যুপ ও খাদ্যতালিকা
সৌন্দর্য কেবল বাইরে নয়, ভেতর থেকেও জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, শীতে পালং শাক, কুমড়া ও ডালের স্যুপ ত্বকের জন্য মহৌষধ। এতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’ কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বক টানটান রাখে। এছাড়া দিনে অন্তত ৭-৮ গ্লাস পানি পানের অভ্যাস ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে।
৬. ঠোঁট ও হাতের বিশেষ যত্ন
শীতে বারবার ঠোঁট চাটার অভ্যাস ঠোঁটকে আরও কালো ও রুক্ষ করে দেয়। ব্যাগে সবসময় একটি ভালো মানের লিপবাম রাখুন। আর রাতে ঘুমানোর আগে হাতে ও পায়ে গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।
৭. ‘স্কিনিমালিজম’ অনুসরণ
অযথা অনেকগুলো প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী মাত্র ২-৩টি সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। ২০২৬ সালে বিশেষজ্ঞরা এই ‘কম প্রোডাক্টে সঠিক যত্ন’ বা স্কিনিমালিজমের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।