ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক সংকট এবং আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ রোববার বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০২ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও বর্তমান অবস্থা
ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর চরম দরপতন এবং নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ১৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।
৩১ প্রদেশে বিক্ষোভ:
রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে এসেছে।
রেড লাইন ঘোষণা:
ইরানের সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) বিক্ষোভকারীদের প্রতি ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা ঘোষণা করে কঠোর দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় তাজা গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন:
তথ্য প্রবাহ রুখতে ইরান সরকার গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে রেখেছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বিকল্প উপায়ে (যেমন স্টারলিঙ্ক) ভিডিও ও তথ্য বাইরে পাঠাচ্ছে।
সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেছেন, এই অস্থিরতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উস্কানি। তিনি জনগণকে ‘দাঙ্গাবাজদের’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে:
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘স্বাধীনতা’ এনে দিতে প্রস্তুত এবং সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
মানবাধিকার উদ্বেগ:
নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশু ও শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইরান বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছর দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নতুন করে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ধস নেমেছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।