গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবীড় মানবিক সংকটে ভরা এবং মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে।
⇒প্রধান অবস্থা (২৭ জুলাই ২০২৫ অনুযায়ী)
১. খাদ্য সংকট ও মৃত্যুর হার
প্রায় ২৪ লাখ গাজা অধিবাসী (যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু) মারাত্মক খাদ্য সংকটে বসবাস করছে। খাওয়ার অভাবে বর্তমানে প্রচণ্ড অনাহার চলছে — সন্তান ও বৃদ্ধসহ শতাধিক লোক প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৭৪ জনের মধ্যে ৬৩ জনই জুলাই মাসে মারা গেছে, তার মধ্যে ২৪ জন পাঁচ বছরের নিচে শিশু। গাজা সিটির শিশুর প্রায় ২০% এখন zware acute malnutrition—GAM হার তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ।
২. হিউম্যানিটারিয়ান পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতা
- ইসরায়েল ১০ ঘণ্টার দৈনিক “ট্যাকটিকাল পজ” ঘোষণা করেছে (প্রতি দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত)—এই সময় মানবতাবাদী সাহায্য পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ।
- এই উদ্যোগের পরেও বিমান ও স্থল হামলায় কমপক্ষে ৩৮ থেকে ৭১ জন নিহত হয়েছেন, অধিকাংশই নারী ও শিশু ।
- সহায়তা পৌঁছাচ্ছে শুধু প্রায় ৬৯টি ট্রাক প্রতিদিন, যা প্রয়োজনীয়তার তুলনায় খুবই অপ্রতুল—প্রতি দিন ৫০০–৬০০ ট্রাক দরকার ।
৩. অবকাঠামো ধ্বংস আর স্বাস্থ্য বিপর্যয়
- গাজার জল, বিদ্যুৎ, ও স্বচ্ছতা ব্যবস্থার অবস্থা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০ মাসের সংঘাতের ফলে পোস্ট ১২ মাসে ধারের ৯০% পাম্প স্টেশন ধ্বংস হয়েছে ।
- পানীয় জল ও ময়লা নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে গেছে, যা সংক্রামক রোগ ও দূষিত পানির মাধ্যমে রোগ ছড়িয়ে দেয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
৪. সামাজিক সংকট ও শাসনব্যবস্থার অবনতি
- হামাসের প্রভাব প্রায় ৮০% কমে গেছে, গাজায় শক্তি উপাদান হিসেবে অস্ত্রশস্ত্র ও ক্ল্যান ভিত্তিক গ্যাংসমূহের উদ্ভব ঘটেছে। এটি সামাজিক অবকাঠামো ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় তৈরি করেছে।
সারসংক্ষেপ
গাজা বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গ্রস্ত, যেখানে:
- খাদ্য না পাওয়ার কারণে মৃত্যুহার অসাধারণভাবে বেড়ে গেছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
- ইসরায়েলের আটকে রাখা উদ্যোগ সীমিত এবং অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
- অবকাঠামো ধ্বংস ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পতিত হওয়ায় অবস্থার নিমগ্নতা বাড়ছে।
- সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে যাচ্ছ, ফলে সুশাসন ও সহায়তা বিতরণ বাধাগ্রস্ত।
অধিক বিক্ষিপ্ত তথ্য জানতে চাইলে…
উপরে যুক্ত বিস্তারিত অ্যাল জাজিরা, এপি, গার্ডিয়ান, এবং ডব্লিউএইচও ও OCHA নিউজ আর রিপোর্ট থেকে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।