বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বৈঠকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে সোলায়মান সাদিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পাথরঘাটার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিরনপুর এলাকার মোসারেফ মোল্লার বাড়িতে এ ঘটানা ঘটে। এঘটনার সময় প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
আহতরা হলেন, পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ড প্রচার সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারী ওয়ালিদ পহলান, পৌর যুববিভাগের সেক্রেটারী কাইউম মীরসহ প্রায় ১৫জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বুধবার রাতে কাঠালতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিরনপুর এলাকার মোসারেফ মোল্লার বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ফেরার পথে সোলায়মান সাদিক নামের এক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পৌর যুববিভাগের সেক্রেটারি মো. কাইয়ুম মীর, পৌর জামায়াতে সহকারি সেক্রেটারি মো. তাওহীদ, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারী ওয়ালিদ পহলান, ইলিয়াস ও ফুলমিয়াসহ প্রায় ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসী সোলায়মান সাদেক বিগত দিনে বিআরটিসি খুলনা মহানগরীতে ড্রাইভার এর পদে চাকরি সূত্রে শ্রমিক লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করেছে। সোলায়ান সাদিকের মত টোকাই সন্ত্রাস জামায়াতের একটি ঘরোয়া কর্মী বৈঠকের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই ভিন্ন চেষ্টা জামায়াতে ইসলাম নিন্দা প্রতিবাদ জানায়।
অভিযোগের বিষয়ে সোলায়মান সাদিকের কাছে মুঠোফোনে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি সাত দিন ধরে এলাকাতে নেই, ঢাকায় অবস্থান করেছি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ কেন আমাকে জড়িয়ে এমন অভিযোগ করেছে তা আমার জানা নেই।
পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, এরকম একটি ঘটনার কথা শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে সাব-ইন্সপেক্টর অসিত এর নেতৃত্বে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা নোট করে নিয়ে এসেছি, যা পেয়েছি তাতে বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা ঘটনা ঘটেছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে যে কথা শোনা যাচ্ছে তা কিছুই পাওয়া যায়নি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তবে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।